মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রাকৃতিক সম্পদ

পাহাড়, নদী অরণ্য বেষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগ প্রাকৃতিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ আধার। এ বিভাগের প্রতিটি জেলাকে প্রকৃতি আপন হাতে সাজিয়েছে তার মূল্যবান সম্পদ দ্বারা। নিম্নে জেলা ভিত্তিক প্রাকৃতিক সম্পদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল।

চট্টগ্রাম জেলা

খনিজ সম্পদ

জেলার একমাত্র গ্যাস ফিল্ড সাঙ্গু ১৯৯৪ সালে আবিস্কৃত হয়। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কেয়ার্ণ এনার্জির এই গ্যাস ফিল্ড নিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে এ গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

কৃষি। 

লবণ

সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় লবন চাষ লাভজনক। ইতিহাসে দেখা যায় ১৭৯৫ সালে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে গড়ে বার্ষিক ১৫ লাখ টন লবন উৎপন্ন হতো।

মৎস্য সম্পদ

চট্টগ্রাম জেলায় মাছচাষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। সমুদ্র এবং নদী-নালার প্রাচূর্য এর মূল কারণ। শহরের অদূরের হালদা নদীর উৎসমুখ থেকে মদুনাঘাট পর্ষন্ত মিঠা পানির প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে বেশ উর্বর। বৃহত্তর চট্টগ্রামে দিঘী, বিল ও হাওড়ের সংখ্যা ৫৬৮, পুকুর ও ডোবার সংখ্যা ৯৫,৯৪১।মোট আয়তন ৮৫,৭০০ একর (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, ১৯৮১), কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার একর বিস্তৃত মাছ ধরার জায়গা হিসাবে চিহ্নিত।

কুমিল্লা জেলা

খনিজ সম্পদ

খনিজ সম্পদ

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কুমিল্লা জেলা। এ জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিকটবর্তী মুরাদনগর থানার বাখরাবাদে আবিস্কৃত হয়েছে ২টি প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র। এখানে বর্তমানে ০৮ টি কূপ হতে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। আনুমানিক গ্যাস মজুদ ৩০/৩৫ মিলিয়ন কিউবিক ফিট।
এছাড়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আবিস্কৃত হয়েছে সিলিকা বালি এবং এ জেলায় ছড়িয়ে আছে বিশেষ ধরণের আঠালো কাদামাটি, যা দিয়ে তৈরি হয় নিত্য ব্যবহার্য্য মাটির জিনিসপত্র। আরো রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ যা সেচের কাজে সহায়তা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

খনিজসম্পদ

 

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র

দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস উৎপাদনকারী ক্ষেত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি আবিষ্কার করে।  ২০০০ সাল পর্যন্ত এখানে ১৪ টি কূপ খনন করা হয়েছে। ৬৪ বর্গ কিলোমিটার ব্যাপী বিস্তৃত এই ক্ষেত্রটি ভূ-গঠন গম্বুজাকৃতির। গ্যাস উৎপাদিত বালুকণাগুলির স্তর অধিকাংশই ২,৬১৬ মিটার থেকে ৩১২৪ মিটার গভীরতম মধ্যে। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মোট অনুমিত মজুত প্রায় ৪.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ২০০০ সালের শেষ পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট ১.৭২ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে যা মোট উত্তোলনযোগ্য মজুতের প্রায় ৭৫ ভাগ।

সালদানদী গ্যাসক্ষেত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। ১৯৯৬ সালে বাপেক্স গ্যাসক্ষেত্রটি খনন করে যার গভীরতা ২৫১২ মিটার। বর্তমানে এই গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে।

গ্যাস উৎপাদন:

তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র ৪৪৩৮ মি:লি: ঘনফুট

সালদা নদী গ্যাস ক্ষেত্র ১৩৪ মিলি: ঘনফূট
গ্যাস মজুদ ও উৎপাদন (বিলিয়ন ঘনফুট)

নাম

আবিষ্কার

মওজুদ নিরূপন

উত্তোলনযোগ্য

এ যাবৎ উৎপাদন

অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য

তিতাস

১৯৬২

২০০১

৫১২৭

২৪৬৮.৭

২৬৫৮.৮

সালদা নদী

১৯৯৬

১৯৯৬

১১৬.১

৪৩.৭

৭২.৪

মেঘনা

১৯৯০

১৯৯২

১১৯.৬

৩৪.৮

৮৪.৮

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজার সদরের নাজিরটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সৈকতের বালিতে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের অন্তত ১৭ লাখ ৪০ হাজার টন খনিজ পদার্থ মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের (বিএইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, সৈকত বালিতে মোট খনিজের প্রাক্কলিত মজুতের পরিমাণ ৪৪ লাখ (৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন) টন। প্রকৃত সমৃদ্ধ খনিজের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন (এক দশমিক ৭৫ মিলিয়ন)। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে উচ্চ চাহিদাধর্মী মজুত আকরিক রফতানি করতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মূল্যবান খনিজ বালি জিরকন, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট ও রুটাইল উত্তোলন করা যেতে পারে। আগেই অস্ট্রেলিয়া সরকার এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার নতুন হাইকমিশনার তার সরকারের আগ্রহের কথা পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর আগ্রহের কথা জানার পর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখার জন্য যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। যুগ্মসচিব আশরাফ আলী খান এই কমিটির আহ্বায়ক। আশরাফ আলী বাসস’কে বলেন, প্রিমিয়ার মিনারেলস নামে একটি অস্ট্রেলীয় কোম্পানি ব্যয়বহুল খনিজসম্পদ জিরকন উত্তোলনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪শ’ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটন জিরকনের দাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বাকিগুলোর দাম গড়ে ৬ হাজার টাকা।
১৯৬০ সালে কক্সবাজারে এই খনিজ সম্পদের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় এবং পরে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন (বিএইসি) বিভিন্ন গবেষণা শুরু করে। ১৯৭০ দশকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সরকার একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশে একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দেয়। সমুদ্রের বেলাভূমি থেকে খনিজ সম্পদ পৃথকীকরণ করে তা আহরণের জন্য ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলীয় সরকারের সহায়তায় কক্সবাজারে একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এতে সম্ভাব্য উত্তোলনে কিছু অগ্রগতি দেখা দেয়।
বিএইসি বিজ্ঞানীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অপর একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করে। কক্সবাজারে সি বিচ এক্সট্রাকশন সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মশরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে খনিজ সম্পদ পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে এবং এই সম্পদ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে চাহিদা অনুযায়ী ক্ষুদ্র পরিসরে বিক্রি করা হচ্ছে।